নিজস্ব প্রতিনিধি: বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর এলাকার চান মিয়া হাজী বাড়িতে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা মো. ইউসুফ ও তার মেয়ে বিলকিছ আক্তার আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ৬ জুন সংঘটিত এ ঘটনায় একই বাড়ির কয়েকজন ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলায় অংশ নেন। অভিযুক্তদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন, মো. শহিদ, মেহেরাজ, নাজমা, আমেনা ও তাছলিমাসহ ৭/৮ জন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বসতঘরের বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে এবং ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামালসহ বসতঘরটির সম্পুন্ন অংশ খুলে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আহত মো. ইউসুফ জানান, তিনি দীর্ঘদিন আগে তিন শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন।
তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে এখানে বসবাস করছি। হঠাৎ করে কয়েকজন লোক সংঘবদ্ধভাবে এসে আমার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। আমার বসতঘরের বিভিন্ন অংশ খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমার কোনো ছেলে নেই। একমাত্র মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠি ব্যবহার করে মারধর করা হয়। এতে মো. ইউসুফ গুরুতর আহত হন এবং তার মেয়েও আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনার সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় মামলা না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মো. ইউসুফ বলেন, আমি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছি। তাই আইনগত পদক্ষেপ নিতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাব।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নাছিমা বেগম বলেন, ইউসুফ মিয়ার সঙ্গে আমাদের জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এ কারণে আমরা আমাদের জমির ওপর থাকা ঘরটি সরিয়ে দিয়েছি। তাদের ঘরের মালামাল চাইলে তারা নিয়ে যেতে পারবেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: